বেসরকারি ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে আনতে হবে, নীতি আয়োগে প্রধানমন্ত্রী

ফোর্থ পিলার

বেসরকারিকরণের পথেই আরও হাঁটতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। নীতি আয়োগের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই কথা আরও একবার পরিষ্কার হল। রাজ্য ও কেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করলে উন্নততর পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। বেসরকারি ক্ষেত্রকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে বেসরকারি ক্ষেত্রকে যৌথভাবে সুযোগ দিলে আত্মনির্ভর ভারত দ্রুত গড়ে উঠবে। এই কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলায় ফুটে উঠেছে।

রাজনৈতিক মহল এই বক্তব্যকে আরও একবার কাটাছেঁড়া শুরু করছে। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্রমাগত বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে বিজেপি সরকার। চলতি বছর বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেখানেও একাধিক সরকারি সংস্থা বেসরকারিকরণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। অলাভজনক সংস্থাগুলি বিক্রি করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে সীলমোহর আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। রেলের একটি অংশ বেসরকারিকরণ হতে শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি হবে। হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম বিক্রি হবে আগামী দিনে।

এছাড়াও একাধিক সরকারি সংস্থা সেই তালিকায় রয়েছে। ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের রাস্তায় হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীরা বরাবর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। আন্দোলন চলছে বিভিন্ন জায়গায়। কৃষি আইনের মাধ্যমে বেসরকারি পুঁজিবাদী সংস্থাকে দেশের কৃষিজ সম্পদ তুলে দেওয়া হবে। একথা বিরোধীরা বরাবর বলে আসছেন। আজও কৃষকরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে রয়েছেন। সমস্ত পরিপ্রেক্ষিতের পরেও কেন্দ্রীয় সরকার তার নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একথা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। নীতি আয়োগের বৈঠক ছিল এদিন। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আত্মনির্ভর ভারত তৈরির জন্য বক্তব্য পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার হিসেবে কেন্দ্র ও রাজ্যের উচিত বেসরকারি ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এটাই আমাদের পদক্ষেপ হওয়া উচিত।”

করোনা ভাইরাসের সময় কেন্দ্র ও রাজ্য সমন্বয় সাধন করেছিল। তাই করোনা ভাইরাস ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ গোটা পৃথিবীতে এক নজির তৈরি করেছে। একথা প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রত্যেক দেশবাসীর জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। ভারতীয়দের স্বপ্নপূরণ করলেই তাদের জীবন আরও উন্নত হবে।”

একদিকে নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলছেন। অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গিয়েছে। ১০০ টাকা ছুঁয়েছে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম। বিদ্যুতের বিল ক্রমাগত বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাদ্যশস্যের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। এই অবস্থানে কি করে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখাতে পারেন? সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

এ দিনের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংও উপস্থিত ছিলেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।