ভারী বৃষ্টি হবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে, উপকূলে কমলা সতর্কতা জারি

ফোর্থ পিলার

সকাল থেকেই আকাশের মুখভার। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা জারি হয়ে গিয়েছে। মহাসপ্তমী বৃষ্টিতে ভাসতে পারে। একথা কার্যত এখন অবধি পরিষ্কার। নিম্নচাপের গতিপথ না বদলালে দুর্ভোগ যথেষ্ট পরিমাণে থাকবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া জেলায় আজ ও আগামী কাল ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা ইতিমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।

গতকাল ষষ্ঠী থেকেই আবহাওয়ার বদল হতে শুরু করেছিল। সপ্তমীর সকাল যথেষ্ট বৃষ্টিবহুল। শরতের মেঘ দেখা যাচ্ছে না। ঘন মেঘ ছেয়ে রয়েছে আকাশে। কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তাপমাত্রা কমে গিয়েছে অনেকটা। কলকাতার তাপমাত্রা দীর্ঘদিন ধরে ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছিল। এক ঝটকায় সেই তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি কম। এই মুহূর্তে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টি চলছে কমবেশি। এই মুহূর্তে নিম্নচাপটি কলকাতা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ- পূর্বে রয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী লেখা দিয়ে এই নিম্নচাপটি বয়ে যাবে। গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়াচ্ছে। এ কথা ঠিক। কিন্তু অতি গভীর নিম্নচাপ হবে বলে মনে করা হচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যথেষ্ট দুশ্চিন্তার জায়গায় থাকবে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। সঙ্গে থাকবে থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। কলকাতায় হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। ভারী বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই কলকাতারও।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। এখানে কমলা সর্তকতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া জেলায় হলুদ সর্তকতা রয়েছে। সুন্দরবনের মানুষদের নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকছেই। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভাঙছে। কাজেই ফের গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে বাদাবন এলাকা। সুন্দরবনের সাধারণ মানুষদের বাড়িতেই থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আগামী কাল পর্যন্ত উত্তাল থাকবে বঙ্গোপসাগর।

সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নজর রাখছে প্রশাসন। সমুদ্র উত্তাল থাকবে। কাজেই কোনওভাবে পর্যটকরা যাতে জলে না নামে, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। দিঘা, মন্দারমণি, শংকরপুর, তাজপুর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে গতকাল রাত থেকেই হাওয়া ও বৃষ্টির গতিবেগ বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।