ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে, পিপিট কিট পরে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ

ফোর্থ পিলার

রাস্তাতেই পিপিই কিট পরে শুয়ে পড়লেন কয়েকজন। রাজ্যে করোনা আবহ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। তার মধ্যেই ভোটপ্রক্রিয়া চলছে। কোনওভাবেই নিয়মকানুন মানা হচ্ছে না। ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে৷ এই মর্মে কলকাতার রাস্তায় হল অভিনব প্রতিবাদ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে চলল এই প্রতিবাদ। রাজ্য ইলেকশন কমিশনের দফতরের থেকে কিছুটা দূরে এই বিক্ষোভ দেখানো হয় বুধবার দুপুরে।

আট নয়জনের একটি দল এই প্রতিবাদ আন্দোলন করেন। তারা প্রত্যেকেই পিপিই কিট পরে এসেছিলেন। উপস্থিত সকলেই তখন অবাক। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। এই আবেদন তারা করছেন। রাজ্যে করোনা আবহে পুজোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।তাহলে এখন কেন ভোটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না? রাজ্যে গতকাল দুই হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কা করা হচ্ছে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে। আর সেজন্যই এই প্রতিবাদ।

গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ অত্যন্ত বেশি ছিল। সেইসময় হাইকোর্ট নির্দেশ দেন সাধারণ মানুষ ব্যতিত এই পুজো করতে হবে। দর্শকহীন পুজোমণ্ডপ ছিল গতবার পুজো। কলকাতা হাইকোর্ট সাধারণ মানুষ ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল এই কাজের জন্য। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেখা সংক্রমণ নেমে গিয়েছিল অনেকটাই। অনেক জেলাই করোনামুক্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত একমাসে ফের করোনার পরিস্থিতি প্রবলভাবে বাড়ছে। কোনও করোনাবিধি মেনে চলা হচ্ছে না। প্রার্থীরাও যেমন একই পন্থা নিয়েছেন। তেমনই সাধারণ মানুষও একইভাবে মেলামেশা করছেন। মাস্ক পরার পাঠ চুকে গিয়েছে বলাই যায়।।।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ গত বছর বিভিন্ন উত্‍সব-অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। রাশ টানা হয় পয়লা বৈশাখ, ২৫ বৈশাখ, ঈদ, মহরম, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজো সহ একাধিক উত্‍সবে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলি কেন এত ব্যস্ত ভোট ঘিরে উন্মাদনায় ? কেন এভাবে মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ হচ্ছে? এই প্রশ্ন বিক্ষোভকারীরা তুলেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।