মন্দারমণির সমুদ্রসৈকতে তিমির মৃতদেহ

ফোর্থ পিলার

মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতে ভেসে এল একটি তিমির মৃতদেহ। সোমবার সকালে সমুদ্রসৈকতে মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনার কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে বহু মানুষ এসে মৃতদেহ দেখে ছবি তুলে নিয়ে যায়। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। দেহটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগেই এই সামুদ্রিক প্রাণীটি মারা গিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দেহটি অনেক দূর থেকেই ভেসে এসেছে সমুদ্রের জলে।

পরীক্ষকরা জানাচ্ছেন, সম্ভবত জাহাজ বা কোনও জলযানের সঙ্গে তিমিটির ধাক্কা লাগে। দেহে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। সম্ভবত সেই কারণেই এই প্রাণীটি মারা গিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দেহটি ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে তার মৃত্যুর সম্পূর্ণ কারণ। প্রাণীটির মুখের অংশ গোলাকার। প্রায় পাঁচ ফুটের কাছাকাছি মুখের অংশটি। পিছনের অংশটি শুরু হয়ে গিয়েছে ক্রমশ। জানা গিয়েছে তিমির লম্বায় ৩৫ ফুট, ১০ ফুট চওড়ায়। ওজন হাজার কিলোগ্রামের বেশি।

কতদিন আগে এই প্রাণীটি মারা গিয়েছে সেই সম্পর্কে কোনও সঠিক সিদ্ধান্ত আসা সম্ভব হচ্ছে না দেহের ক্ষতস্থানগুলিতে অল্পবিস্তর পচন ধরেছে। কাজেই ক্ষত যে গভীর ছিল সে কথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে লকডাউন চলছে। সমুদ্রতে জাহাজ চলাচল সেই অর্থে করছে না। তাহলে ক্ষত কি অনেক পুরনো? নাকি অনেক দূরের কোনও জায়গায় এই তিমিটি বাস করত। সেখানেই দুর্ঘটনা হয়। একাধিক ক্ষত কি একদিনেই তৈরি হয়েছে? নাকি একাধিক বার আলাদা আলাদা দিনে আঘা লেগেছে। এইসব প্রশ্নের জবাব ময়নাতদন্তের পর উঠে আসবে।

কি প্রজাতির তিমি, সেটি এখনও জানা সম্ভব হয়নি। দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর সমুদ্রসৈকতে এর আগেও একাধিকবার তিমির মৃতদেহ ভেসে এসেছিল। গত ২ বছর আগে শঙ্করপুর সমুদ্রসৈকতে একটি নীলতিমির মৃতদেহ ভেসে আসে। সেই নিয়ে বিস্তর হইচই হয়েছিল। কাতারে কাতারে মানুষ সেই তিমির।মৃতদেহ দেখতে হাজির হয়। নীল তিমি বিরল প্রজাতির। এর আগেও বেশ কয়েকবার তিমির মৃতদেহ উঠে এসেছিল শঙ্করপুরের সমুদ্রসৈকতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।