মমতা আসেননি পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে, ফের দুঃখ পেয়েছেন রাজ্যপাল

ফোর্থ পিলার

শনিবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ছিলেন খুশিতে উচ্ছ্বসিত। রবিবার তিনি আবার দুঃখ পেয়েছেন। তিনি কষ্ট পেয়েছেন আন্তরিকভাবে। সৌজন্যে সেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রবিবার কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সে অনুষ্ঠানে আসেননি। সেই ঘটনাতেই রাজ্যপাল কষ্ট পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী থাকা সাংবিধানিক কর্তব্য। রাজ্যপাল মনে করেন এটি রাজনৈতিক সৌজন্যতাতেও পড়ে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থাকতে হত। এই কথাই আজ জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। গতকাল শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলেনিয়াম পার্কের অনুষ্ঠানে। দীর্ঘদিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপালের মধ্যে মুখোমুখি দেখা হয়। সৌজন্য বিনিময় হয় তাও নজরে আসে সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে।

গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর আচরণে খুশি হয়েছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে দু’পাশে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মধ্যমণি। এই ছবি নজরে এসেছে। যদিও রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও পরে মিলেনিয়াম পার্কে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া, রাজ্যের রাজনীতিতে এক চরম বিতর্ক তৈরি করেছে বিরোধীরা দাবি তুলেছেন বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের আঁতাঁত রয়েছে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তৃণমূল যতই আন্দোলন করুক আসলে বিজেপিকে কৌশলে রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে শাসকদল।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমতো আক্রমণ করেন বাম ছাত্র – যুবরা। রানী রাসমণি রোডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল গতকাল রাতে। আজ নতুন করে হয়তো কোনও বিতর্ক রাখতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। সে কারণেই পোর্ট ট্রাস্ট – এর অনুষ্ঠান তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। শুধু তিনি নন, রাজ্য সরকারের কোনও আধিকারিক, মন্ত্রীও রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে উপস্থিত ছিলেন না। রাজ্যপাল ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে না থাকাটা সাংবিধানিক দিক থেকে অনৈতিক। এমনটাই মনে করেন তিনি। সে কারণেই তিনি দুঃখ পেয়েছেন বলে একাধিকবার জানান। রাজ্যপালকে নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় নামা থেকে বিমানবন্দরে তাকে ছাড়তে যাওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল যেন এক সর্বক্ষণের সঙ্গী। এমন কথাও উঠে এসেছে বিরোধী মহল থেকে। আজ রাজ্যপাল দুঃখ পেলেও শেষপর্যায়ে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।