মাধ্যমিক বাতিল, অবসাদে আত্মঘাতী ছাত্রী

ফোর্থ পিলার

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আপ্রাণ পরিশ্রম করছিল ১৬ বছরের কিশোরী। খুব একটা সচ্ছল পরিবার নয়। বড় হয়ে বাবার পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তার। মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কি হবে না? তাই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই মনমরা ছিল ওই কিশোরী। মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রাতে আত্মহত্যা করল সে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটায়।

দিনহাটার আটিয়াবাড়ি আম্বালি বাজারের বাসিন্দা ওই কিশোরী। নাম বর্ণালী বর্মন। বয়স ১৬ বছর। চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতো প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। জানা গিয়েছে মেধাবী ছাত্রী ছিল বর্ণালী। পড়াশোনা যথেষ্ট মনোযোগ সহকারে করত সে। স্কুলের পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে বরাবর।মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে তার যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। প্রাণপণ খাটছিল সে। দিনরাত এক করে পড়াশোনা চলছিল। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পরীক্ষা হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল দোলাচল। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তখন থেকেই তার মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। আশা ছিল, পরীক্ষা সম্ভবত হবে।

বরাবর সে চাইত পড়াশোনা করে ভালো কিছু কাজ করবে। বাবার পাশে থেকে পরিবারের দায়িত্ব নেবে। গতকাল দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরীক্ষা বাতিল করে দেন। জানিয়ে দেওয়া হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে না। ঘোষণার পরেই মনমরা হয়েছিল সে। বাড়ির সকলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বর্ণালী গুম মেরে যায়। নিজের ঘরে ছিল সে সন্ধ্যা থেকে। রাতে তাকে খেতে ডাকা হয়। দেখা যায় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ বেশ। কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। শেষপর্যন্ত দরজা ভাঙা হয়। তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় ভিতরে। একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছে। লেখা হয়েছে, “তোমার সব কাজের দায়িত্ব নিতে পারলাম না বাবা।” এলাকায় যথেষ্ট শোক নেমেছে এই ঘটনায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।