মুকুল রায়কে নিয়ে নরম সুর সৌগত রায়ের, বাড়ল জল্পনা

ফোর্থ পিলার

মুকুল রায়কে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শিবির নরম মনোভাব গ্রহণ করছে। বিজেপির সঙ্গে মুকুল রায়ের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একথা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্য বিজেপির সঙ্গে খুব একটা ঘনিষ্ঠতা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না এই দুঁদে নেতার। দমদমের সাংসদ সৌগত রায় মুকুল রায় সম্পর্কে কিছুটা নরম মনোভাব রাখলেন। অন্যান্য দলত্যাগীদের মতো মুকুল রায় নন। এই কথা সৌগতবাবুকে বলতে শোনা গেল। আর সেখান থেকেই জল্পনা উঠল তৃণমূল শিবিরে মুকুল রায়ের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে।

দমদমের সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেন, “এমন বহু নেতা আছেন, যাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এবং তাঁরা এখন ফিরে আসতে চান।” তৃণমূলের এই দলত্যাগীরা মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত। কেউ কেউ নরমপন্থী, কেউ কেউ চরমপন্থী। সৌগত রায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা যেখানে মমতাকে নিয়ে প্রকাশ্যেই বাজে কথা বলেছে, সেখানে মুকুল রায় কখনও মমতাকে নিজে কটু কথা বলেননি।” তাহলে কি ‘নরমপন্থী’ মুকুলের জন্য দরজা খুলছে তৃণমূল?দলত্যাগীদের ফেরানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন। এই কথাও জানিয়েছেন সৌগত রায়।

গত দুই সপ্তাহে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট জল্পনা দেখা গিয়েছে। মুকুল রায়ের স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে অভিষেকের কথা হয়। যে কোনও প্রয়োজনে অভিষেক পাশে রয়েছেন। এই বার্তা দেওয়া হয়েছে শুভ্রাংশুকে। অভিষেকের ব্যবহার শুভ্রাংশুকে আপ্লুত করেছে। শুভ্রাংশু তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে। তাই নিয়ে বিজেপি কিছুটা বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ করেছে।

এই অবস্থানে মুকুল রায় আরও জল্পনা বাড়িয়েছেন। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না মুকুল রায়কে। ভোটের পর কার্যত তিনি চার দেয়ালের অন্দরেই সময় কাটাচ্ছেন। হেস্টিংস অফিসেও হাতে গোনা কয়েক দিন তাকে দেখা গিয়েছিল। দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার দলের বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মুকুল রায়। পরে জানিয়েছিলেন সেই বৈঠক সম্পর্কে তার কাছে কোনও তথ্য ছিল না। সল্টলেকের বাড়িতে মঙ্গলবার অনুগামীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মুকুল রায়।

বিজেপির সঙ্গে তার দূরত্ব কি বাড়ছে? এই প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। এবারের ভোটে মুকুল রায়কে খুব একটা দেখতে পাওয়া যায়নি। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে তাকে প্রার্থী করা হয়। সেই নির্বাচন নিয়েই তিনি ব্যস্ত ছিলেন। অন্যান্য কেন্দ্র নিয়ে তিনি খুব একটা কাজ করার সুযোগ পাননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন ভোটের সময়। “মুকুল অত খারাপ নয়। ও বাজে কথা বলেনি। একথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।