মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরেই উঠল ‘দিদি- মোদী সে আজাদি’ স্লোগান, মেজাজ হারালেন মমতা

ফোর্থ পিলার

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উঠল এবার ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্ণামঞ্চে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যা আসে। একের পর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে। প্রথমে শান্তভাবে কথা বললেও একসময় মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি এক ছাত্র প্রশ্ন করেন, দিদি মোদীকে ঢুকতে দিলেন কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় উত্তেজিত হয়ে বলেও ফেলেন, দিল্লি গিয়ে আন্দোলন করতে। তার সভামঞ্চের সামনে এসে গোলমাল না করতে।

রীতিমতো উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত বিশাল পুলিশ গিয়ে সরিয়ে বাম ছাত্রদের। রানী রাসমনি রোডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে এই ঘটনায় সন্ধের পর রীতিমতো উত্তেজনা তৈরি হয়। আজ রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের মধ্যে ১৫ মিনিট সৌজন্য সাক্ষাতও হয়। কলকাতা বিমানবন্দরে কলকাতার মহানাগরিক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেওয়া হয়। গোটা ঘটনায় রাজ্যের বামেরা ও কংগ্রেস রীতিমতো ক্ষুব্ধ। বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত আছে। সেই অভিযোগ আবার তোলা হয়৷ বিকেল থেকেই ধর্মতলা চত্বরে দিদি বিরোধী স্লোগান ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি এক পড়ুয়া প্রশ্ন করেন, ‘দিদি প্রধানমন্ত্রীকে ঢুকতে দিলেন কেন বাংলায়?’ মাইক হাতে মমতা বলেন, ‘উনি নিজে এসেছেন। তোমাদের আন্দোলন করার হলে দিল্লিতে গিয়ে করো।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন থেকে বেরিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পাওনা ২৮ হাজার কোটি টাকা দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন বাতিল ও এনআরসি বন্ধ করার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও গুরুত্ব দিয়ে মমতার কথা শুনেছেন। কিন্তু এই কথা বিরোধীরা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি। এই পরিস্থিতিতে মিলেনিয়াম পার্কে অনুষ্ঠান সেরে মমতা রাসমনি রোডের ধর্ণামঞ্চতে আসেন। তারপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ।

মুখ্যমন্ত্রী শুরুতে শান্ত ছিলেন। বোঝানোর ভঙ্গিতে বলেন, ‘তোমাদের যা দাবি, আমাদেরও তাই দাবি। তোমরা শান্ত হও।’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই গো ব্যাক স্লোগান ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা যত খুশি স্লোগান দাও। আমাদের পুলিশ কিছু করবে না। এটা দিল্লির পুলিশ নয়।’ ‘ দিদি-মোদী সে আজাদি’ এই স্লোগান ওঠে ছাত্রদের তরফ থেকে। তখন মুখ্যমন্ত্রীও ববন্দেমাতরম স্লোগান তোলেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার উপরে হামলা হলে আমাদেরও ছাত্র সংগঠন আছে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।