মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে নামল বাস, কিছুটা বদল যাত্রী দুর্ভোগের ছবি

ফোর্থ পিলার

রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার চিত্র কিছুটা বদলালো। বৃহস্পতিবার কলকাতার ও শহরতলির রাস্তায় দেখা গেল বেশ কিছু বেসরকারি বাস। রাস্তায় বেরোনো নিত্যযাত্রীরা সমস্যা থেকে কিছুটা রেহাই পেলেন। বস্তুত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির কারণে আজ বাস মালিকরা গাড়ি নামিয়েছেন পথে। এমন কথাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে কতদিন বাসমালিকরা এভাবে গাড়ি চালাবেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন। বাস না নামানো হলে এর পরবর্তী সময়ে সরকার বাস নিয়ে নেবে। এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উদ্বেগের একথা স্বীকার করে নিয়েছিল ওয়াকিবহাল মহল। বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল কোনওভাবেই বাস নামানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনে সরকার বাস নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছবিটা বদলাতে থাকে। বহু রুটেই পর্যাপ্ত বাস নামতে দেখতে পাওয়া যায় এদিন।

ওয়াকিবহাল মহল বলছে এদিন প্রায় চার হাজারের উপর বাস কলকাতা ও শহরতলির রাস্তায় দেখতে পাওয়া গিয়েছে। রাজ্যে বেসরকারি বাসের সংখ্যা ছয় হাজার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সমস্ত বেসরকারি বাস রাস্তায় নামবে। না হলে বাস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আজ নবান্নের থেকেও কিছুটা সুর নরম করা হয়েছে। বাস মালিকদের তরফ থেকে নতুন দাবিপত্র পাঠানো হয়েছে নবান্নে। নবান্নের সঙ্গে আগামী দিনে বাস মালিক সংগঠনগুলির আলোচনা হবে এই বিষয়ে। তবে কোনওভাবেই বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি থেকে সরে আসছে না সংগঠন।

সাধারণ মানুষও চাইছেন কোথাও এবার পরিবহণ ব্যবস্থা ঠিক হোক। প্রায় এক মাস হতে চলল কলকাতা ও শহরতলিতে বেসরকারি বাস নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলছে। সরকারপক্ষ চাইছে না বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করুক। অন্যদিকে পুরনো ভাড়ায় কিছুতেই মালিকরা বাস চালাতে রাজি নন। মধ্যের যাঁতাকলে রোজ নাস্তানাবুদ হচ্ছেন নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া দীর্ঘদিন বাড়িতে কাজ হারিয়ে বসে রয়েছেন বাসচালক ও কন্ডাক্টরাও। তারাও চাইছেন পরিস্থিতি থেকে আশু সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসুক।

ডিজেলের মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধি সমস্যায় ফেলেছে বাস মালিকদের। ন্যূনতম ভাড়ায় যদি বাস চালাতে হয়, তাহলে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় বাসমালিকদের পড়তে হবে। সে কারণেই বেশি ভাড়া নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে। গত একমাস ধরে এই টানাপোড়েনের মধ্যে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিস বেড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রীতিমতো যুদ্ধ করে বাসে উঠতে হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব শিঁকেয় উঠেছে। এমতাবস্থায় গণপরিবহণ ব্যবস্থা সচল করার জন্য রাজ্য সরকারের উপরে চাপ তৈরি হচ্ছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।