মৃত শহিদদের শেষশ্রদ্ধা শাহের, ২২ জওয়ানের মৃত্যু মাও হামলায়

ফোর্থ পিলার

২২জন জওয়ান মারা গিয়েছেন জঙ্গি হামলায়। কার্যত অসহায় অবস্থা রায়পুর এলাকায়। দন্তেওয়াড়ায় ২০১০ সালে হামলা হয়েছিল মাওবাদীদের। ছত্রিশগড়ে মাওবাদী হামলা সেই স্মৃতি ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। চারশোর বেশি মাওবাদী আক্রমণ করেছে পুলিশ, সেনা জওয়ানদের উপর। একথা জানা যাচ্ছে।

গ্রেনেড, রকেট হামলা হয়েছে বাহিনীর উপরে। ৩০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন বাহিনীর। অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১২ টির বেশি অস্ত্র লুট করে নিয়ে গিয়েছে মাওবাদীরা। ২০১০ সালে দন্তেওয়াড়াতে হামলা চালিয়েছিল মাওবাদীরা। সেই হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান মারা যায়। ছত্রিশগড়ের বীজপুরে মাওবাদীরা সংগঠিত ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এই বক্তব্য জানা গিয়েছিল। সেই অনুযায়ী দীর্ঘ এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীরা এলাকায় হানা দিয়েছে। শনিবার ঠিক সেই ঘটনা ঘটে।

জানা গিয়েছে, আঠারোশো সদস্যের কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ হানা দিয়েছিল ওই এলাকাতে। মাওবাদীদের অন্যতম বড় নেতা এই মুহূর্তে হিডমাকে গ্রেফতার করার জন্যই বাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালায়। সেই খবর মাওবাদীদের কাছে আগে থেকেই পৌঁছেছিল। এ কথা বোঝা গিয়েছে। বাহিনীকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের মধ্যে একটি ফাঁকা মাঠের মধ্যে তাদের ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। সবাই গুলির আঘাতে মারা গিয়েছেন, এমন নয়। অনেকেই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন।

জুনাগুডাম গ্রামের মধ্যে ছয়জনের দেহ পড়েছিল। এরপরের গ্রাম টোকলাগুদাম। সেখানে মারা গিয়েছেন আট জওয়ান। দেহ পড়েছিল সেখানে। এরপরে একটি বড় মাঠ। সেখানে বাহিনীর সদস্যদের ঘিরে ধরে আক্রমণ চালানো হয় বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর দীপক ভরদ্বাজের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। অনেকের শরীর বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাওবাদীরা এই হামলা চালায় বলে প্রাথমিকভাবে খবর।

মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে রবিবার সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও নিহতদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বাহিনীকে ফাঁদে ফেলে মাওবাদীরা এই আক্রমণ চালিয়েছে। এ কথা অনেক ক্ষেত্রেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বাহিনী দাবি করেছে, ২৫ – ৩০ জন মাওবাদী মারা গিয়েছেন। তবে এলাকা থেকে একজন মহিলার মৃতদেহ কেবল উদ্ধার হয়েছে। গতকালই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পাঁচটি গ্রাম সম্পূর্ণ শুনশান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।