মেইল ইন ভোটিংয়ে কারচুপি হবে, নিজের হারের আশঙ্কায় ট্রাম্প

ফোর্থ পিলার

মেইল ইন ভোটিং হলে হারতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজেই এই আশঙ্কার কথা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ব্যালটের মাধ্যমে প্রবল কারচুপি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ট্রাম্প। আর তার কারণেই তিনি নভেম্বরের ভোটে ক্ষমতায় আসতে না পারেন। সাধারণ মানুষ তাকে অপছন্দ করে ভোট দেবেন না! একথা সত্য নয়। মানুষের ভোট তার পক্ষেই যাবে। এ কথা জোর দিয়ে তিনি দাবি করেছেন।

তাহলে তার আশঙ্কা কোথায়? সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যে সকল মানুষ বুথে গিয়ে ভোট দেবেন না, তারা ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ডাক সহযোগে সেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প কারচুপির অভিযোগ করছেন। তার মতে ডাকযোগে ব্যালট সংগ্রহ হলে ডেমোক্র্যাটরা ভোট কারচুপি করবে। বিপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোট চলে যাবে। এক্ষেত্রে আরও বেশি করে তিনি ব্যালটের বিরোধিতা করছেন।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি যদি ভোটে হারেন তাহলে কি জয়ী প্রার্থীর হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন? এই ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উত্তর দিয়েছেন। তার বক্তব্য, তিনি হারতে পারেন না। যদি হারেন, তাহলে মেইল ইন ভোটিং – এর জন্যই হারবেন। কি এই মেইল ইন ভোটিং? সাধারণত যে সকল ভোটাররা অনুপস্থিত রয়েছেন, তারা ব্যালটে ভোট দিতে পারেন। সেই ভোট পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট জায়গায়। এবার এখানে কারচুপির আশঙ্কা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগেও ব্যালট নিষিদ্ধ করার জন্য সরব হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কোনওভাবেই চান না এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে ব্যালট ব্যবহৃত হোক। যদিও এখন অবধি কোথাও ব্যালটের মাধ্যমে ভোটে কারচুপি হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। তারপরও প্রেসিডেন্ট কার্যত জোর দিচ্ছেন তার বক্তব্যে। ডেমোক্র্যাট ব্যালটের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করবে। এই অভিযোগ তিনি প্রকাশ করেছেন। তবে এবার ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি হয়ে উঠেছে।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, “আমেরিকায় এখন নানা অশান্তি চলছে। এই অবস্থায় কি আপনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন?” ট্রাম্প বলেন, “আগে ব্যালটকে বিদায় করুন। তারপরে দেখবেন, খুব শান্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে।” পরে তিনি আরও বলেন, “ব্যালটগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। আপনারা সেকথা জানেন। ডেমোক্র্যাটরা এই কথা সবচেয়ে বেশি জানে।”

করোনা ভাইরাস আবহে বহু মানুষ সরাসরি ভোটগ্রহণে যাবেন না। এক্ষেত্রে তারা ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা এবার সব থেকে বেশ। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ব্যালট নিষিদ্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। আগামী নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে আমেরিকায়। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন অনেক বেশি প্রচারের আলোয় আসছেন এই মুহূর্তে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।