মেঘ জমছে, নিম্নচাপ তৈরি হলে ভাসতে পারে ষষ্ঠী থেকে নবমী

ফোর্থ পিলার

মেঘ জমতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরের উপর। ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপের আকার ধারণ করতে পারে। একথাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পুজোর ষষ্ঠী থেকে বৃষ্টি শুরু হবে এ কথাকেই এখন অবধি মান্যতা দিচ্ছে হাওয়া অফিস। সে বার্তাই ইঙ্গিত করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে শুরু করেছে। জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করছে সেটি।

স্থলভাগের উপরেও যথেষ্ট পরিমাণে আদ্র আবহাওয়া বর্তমান। সেই হিসেবে নিম্নচাপ অক্ষরেখা আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তার জেরে গভীর নিম্নচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। আগামী দিন দুয়েকের মধ্যেই পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে দিকে এই নিম্নচাপ যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গ সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি হবে।

ষষ্ঠী থেকে বৃষ্টি হতে পারে। নবমী পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে। এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে এই মুহূর্তে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে যথেষ্ট বেশি। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে। পঞ্চমী থেকে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হবে। দশমীতেও বৃষ্টি থাকতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন, আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশ কুমার দাস।

বর্ষা এখনও বিদায় নেয়নি। তাই মৌসুমী বায়ুর যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে বাতাস থেকে শক্তি সঞ্চয় করতে কোনও ক্ষতি হবে না ঘূর্ণাবর্তের। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গে আদ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে। বাতাসে জলীয়বাষ্প অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে বাধা নেই। যারা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ঠাকুর দেখা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এই সংবাদ আশ্বস্ত করার। এমনটাই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে পুজোর আনন্দ রোশনাই ম্লান হয়ে যেতে পারে এক্ষেত্রে।

গত বুধবার রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার কথা। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এখনও সেই বর্ষা বিদায় নেয়নি। একের পর এক নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে একটি নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছিল। সেই নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছে। এইসব কারনণেই বঙ্গ থেকে বিদায় নিতে পারছে না বর্ষা। আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে দিকেই যাবে। স্থলভাগের ওই রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করবে। একথা এখন অবধি মনে করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নিম্নচাপটি সম্পূর্ণ তৈরি না হলে তার গতিবিধি সম্পর্কে বাকি বিষয় বলা যাবে না। এমনটাই জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।