রাজপুত্রের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ নাপোলি, রাতে রাজপথে কান্না, মিছিল

ফোর্থ পিলার

শোকে বিধ্বস্ত ইটালির নাপোলি শহর। তাদের প্রিয় তারকা চলে গিয়েছেন। রেখে গিয়েছেন এক সমুদ্র স্মৃতি। বিশ্ব ফুটবলে তাদের শহরকে আলাদাভাবে চিনিয়ে দেওয়ার পরিচায়ক দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। নাপোলির ক্লাবে খেলেছেন অনেকটা সময় ধরে। আর্জেন্টিনার বাইরে ইটালিতে এসে খেলেছেন তিনি। নাপোলি সেই থেকে মারাদোনার ভক্ত।

নাপোলির ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে তিনটি ট্রফি জয় রয়েছে। দুটি সিরিএ লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন লিগ জয় করেছিল নাপোলি। বলে রাখা ভালো এই তিনটি জয়ের নায়ক ছিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ মারাদোনা একা জিতিয়েছিলেন। এই নাপোলি ক্লাব ফুটবলের খেতাবও কার্যত মারাদোনার একার চেষ্টায় এসেছিল। তাই মারাদোনা ফুটবলের ইতিহাসে তাদের কাছে এক অন্যতম নায়ক।

খবর এসেছিল ফুটবলের রাজপুত্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। গোটা পৃথিবী শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। সেই রাতে নাপোলি শহর কার্যত শোকে মুহ্যমান। রাস্তায় নেমে আসেন অসংখ্য মানুষ। শুরু হয় মারাদোনার জন্য শোক পালন। রাস্তার ধারে বহু মানুষ মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শোকস্তব্ধ হয়ে। মারাদোনার আত্মার শান্তিতে এ যেন শেষ শ্রদ্ধা। আর্জেন্টিনা ও ইতালি দুটি আলাদা দেশ। কোথাও যেন মনে হয়েছে নাপোলি শহর আর্জেন্টিনার মধ্যেই এক ফালি অংশ।

রাতেই বিভিন্ন রাস্তায় বিশাল এলইডি বোর্ড লাগানো হয়েছিল। দিয়েগো মারাদোনার বিভিন্ন বয়সের ছবি ফুটে উঠেছে সেখানে। রাস্তায় কার্যত মিছিল করে সাধারণ মানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন। মারাদোনার মৃত্যুতে অঝোরে কেঁদেছেন বহু মানুষ। মারাদোনার খেলা স্মৃতিতে রয়েছে বয়স্কদের মধ্যে। যুব সমাজের কাছে অনেকটাই টাটকা। আর তরুণদের মধ্যে এক আবেগের স্মৃতি। সব মিলিয়ে নাপোলি কোথাও কার্যত শোকস্তব্ধ। ইতালি বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক মর্যাদার আসনে রয়েছে। স্বনামধন্য ফুটবলাররা ইটালিতে রয়েছেন। তারপরেও মারাদোনার জন্য জায়গা সবার আগে।

মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর গত ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। মদ্যপান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরাসরি তাঁকে বুয়েনস আয়ার্সের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহদুয়েক ধরে সেখানেই ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর সংবাদ আসার পরেই আর্জেন্টিনার জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার বাড়ির সামনে ভিড় করেন অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী মানুষ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।