রাজ্যে শিল্প করতে টাটাদের আমন্ত্রণ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

ফোর্থ পিলার

রাজ্য থেকে টাটারা বিদায় নিয়েছে ১৩ বছর হয়ে গেল। সিঙ্গুর ঘিরে রাজ্যে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনে শেষপর্যন্ত রাজ্য থেকে বিদায় নেয় টাটা শিল্পগোষ্ঠী। এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। রাজ্যে শিল্প করতে টাটাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে।

টাটাদের সঙ্গে নৈতিকভাবে কোনও বিরোধ নেই তৃণমূল কংগ্রেসের। একথা জোর গলায় বলেছেন বর্তমান শিল্পমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এখান থেকেই শুরু হয়েছে রাজ্যের নতুন শিল্প উদ্যোগের সম্ভাবনা। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে রাজ্যে। কর্মসংস্থান অন্যতম বড় লক্ষ্য এখন। শুধু তাই নয় রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে শিল্পের বার্তা দেওয়াও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিরোধীরা বরাবর দাবি করে আসছে রাজ্যে কোনও বড় শিল্পের প্রেক্ষাপট শুরু হয়নি। এবারে সেই শাপমোচন করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

টাটা একসময় রাজ্যে শিল্প করতে আগ্রহী হয়েছিল। সেসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনের জন্য পরে তারা বিদায় নেয়। ন্যানো কারখানা আর হয়নি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য শিল্পপতিদের কাছেও বিরূপ বার্তা পৌঁছেছিল রাজ্যের তরফে। এই অবস্থায় শিল্পমন্ত্রী চাইছেন রাজ্যে টাটা কারখানা শুরু করুক। রাজ্যের তরফে বলা হচ্ছে দুটি শিল্পতালুক অবিলম্বে করা প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্য টাটাদের সঙ্গে জোর কথাবার্তা চলছে। নুন থেকে ইস্পাত শিল্পে টাটাদের সুনাম রয়েছে বরাবার। এবার সেই টাটাদের দিয়েই রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ করাতে ইচ্ছুক নবান্ন।

নতুন প্রজন্মের কাছে কর্মসংস্থানের বার্তা দিতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, আরও বড় বার্তা দেশের রাজনীতিতে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি
জানাচ্ছেন, বামফ্রন্ট সরকারের জমি নেওয়ার নীতির বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। টাটাদের সঙ্গে কোনও শত্রুতা তৃণমূল কংগ্রেসের ছিল না। তাই টাটাদের বিরোধিতা করে কোনও আন্দোলন তৃণমূল কংগ্রেস করেনি। বামফ্রন্ট সরকারের জমি নীতির বিরোধিতা সিঙ্গুরে দেখা গিয়েছিল। এবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজ্য রাজনীতিতে উঠে আসছে। এ কথা বলাই যায়। সিপিএম সিঙ্গুর আন্দোলনে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল। সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই রাজ্যে পালাবদল ঘটে। এবার সিপিএম কতটা এই বিষয়কে প্রচারের আলোয় আনতে পারে? তার বিষয়ে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।