রাত ১০ টার পর নিভল আগুন, মায়ের বাড়ির গ্রন্থাগার পুড়ে ক্ষতি

ফোর্থ পিলার

রাত দুটোতেও পুড়ে যাওয়া এলাকা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। গোটা এলাকা জলে জলাকার। বাতাসে গরমের আঁচ। চারদিকে পোড়া জিনিসের গন্ধ। আর কানে আসছে মানুষের কান্না, হাহাকার। পাশাপাশি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। বাগবাজার মায়ের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এখন এটাই বুধবার গভীর রাতের ছবি। হাজারি বস্তি পুড়ে খাঁক হয়ে গিয়েছে। শতাধিক মানুষ মাথার উপর থাকার ছাদ হারিয়েছে। সম্পূর্ণ পথে এসে দাঁড়িয়েছে তারা।

আগুনের লেলিহান শিখা যেন সর্বস্ব গ্রাস করে নিয়েছে। দমকলকর্মীরা প্রাণপন লড়াই চালিয়েছেন। এদিকে রাতের ঠান্ডা কনকনে বাতাস বইছে। তার উপস্থিতিতে আরও বেড়েছে আগুন। দমকলের ২৭ টি ইঞ্জিন আগুন নেভাতে এসেছিল। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ কর্মীরা। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে পুলিশের উপরও। ঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ উঠেছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ করেছেন সব হারানো মানুষগুলো। সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ আগুন লাগে। রাত ১০ টার পর সেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এমনটাই জানা যাচ্ছে।

মায়ের বাড়ির একটি অংশেও আগুন লেগে যায়। সেখানে অফিস ও গ্রন্থাগার আছে। অফিসের গ্রন্থাগার ও বেশ কয়েকটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। একাধিক আসবাবপত্র পুড়ে গিয়েছে। তবে মহারাজরা তার মধ্যেও জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। কিছু নথি ও বইপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। মহারাজদের দ্রুত ওই কার্যালয় ছাড়ার আবেদন জানিয়েছে দমকল আধিকারিকরা। পুরো বাড়িতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। আগুন দেখে তেমনই মনে হয়েছে। বাগবাজার ব্রিজ সংলগ্ন বস্তির আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকার অনেক জায়গাতেই।

বিধ্বংসী এই আগুনে ১০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তাদের পুরসভার কমিউনিটি হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকায় র‍্যাফ মোতায়েন আছে। বাগবাজার উইমেন্স কলেজেও আগুন লাগার সম্ভাবনা ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ঝুপড়ি এলাকায় কোনও গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে কিনা, দেখা হচ্ছে। থাকলে সেগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গাসাগর থেকে এসেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। হেলিকপ্টারে তিনি বাগবাজারে এসে পৌঁছান। ফিরহাদ হাকিম আশ্বাস দিয়েছেন, ” বৃহস্পতিবার সকাল পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।