রেষারেষিতে ভেঙেছিল লুকিং গ্লাস, টাকা চাইতে গেলে চালককে পিষে দিল অন্য বাসচালক

ফোর্থ পিলার

রেষারেষির জন্য বাসের লুকিং গ্লাস ভেঙে গিয়েছিল। বাসচালক এর প্রতিবাদ করে। অন্য বাসের ড্রাইভারের কাছে গিয়ে সেই বাবদ টাকা চান তিনি। টাকা দেওয়া তো দূরে, তার উপর দিয়েই বাস চালিয়ে চলে যায় অন্য চালক। আক্রান্ত বাসচালক মারা যান। মর্মান্তিক, ন্যক্কারজনক এই ঘটনা ঘটেছে খাস কলকাতায়। কিভাবে এমন কাজ একজন বাসচালক করতে পারেন? তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বি টি রোডের চিড়িয়ামোড়ের কাছে। অভিযুক্ত বাসচালক বিজয় দে- কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃত বাসের চালকের নাম পূর্ণেন্দু নন্দী। জানা গিয়েছে, শুক্রবার বাস নিয়ে বেরিয়েছিলেন পূর্ণেন্দু নন্দী। ব্যারাকপুর হাওড়া রুটে তিনি বাস চালান। চিড়িয়ামোড়ের কাছে বাস দাঁড়িয়েছিল সে সময় উল্টো দিক থেকে ৭৮ নম্বর রুটের একটি বাস এসে ধাক্কা মারে। পূর্ণেন্দুবাবুর বাসের লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়। রেষারেষি করার সময় ৭৮ নম্বর বাসটি এসে ধাক্কা মেরেছে।

পূর্ণেন্দুবাবু চালকের আসনে থেকে নেমে ওই বাসটির চালকের কাছে যান। কেন এমনভাবে বাস চালানো হয়? সেই প্রশ্ন তিনি করেন। বাসের ক্ষতি হওয়ার জন্য ১০০ টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। লুকিং গ্লাস ঠিক করতে ১০০ টাকা প্রয়োজন। এমনটাই শোনা গিয়েছে। টাকা দেওয়া হয়নি। বরং ৭৮ নম্বর রুটের বাসের চালক বিজয় দে বাস চালিয়ে দেন। পূর্ণেন্দুবাবুর শরীরের উপর দিয়েই বাসের চাকা চলে যায়।

শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনায় তীব্র হইচই পড়ে গিয়েছিল। সকলেই ছুটে আসে ওই ঘটনা দেখে। অনভিপ্রেত ঘটনা, এটি বলাই যায়। পূর্ণেন্দুবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত চালক বিজয় দে-কে কিছু সময় পরেই গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবারে। পূর্ণেন্দুবাবুর বয়স মাত্র ৪১ বছর। বাড়িতে মা, স্ত্রী ও ছয় বছরের সন্তান রয়েছে। পুজোর আগে এমন ঘটনায় শোকাহত ব্যারাকপুর হাওড়া রুটের বাসের চালকরাও।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।