লকডাউনের সাহসী সিদ্ধান্তে প্রাণ বেঁচেছে ৭৮ হাজার, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ফোর্থ পিলার

লকডাউন হয়েছিল বলেই ভারতে ৭৫ হাজার মানুষের প্রাণরক্ষা হয়েছে। লোকসভার কক্ষে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন আজ এই কথা জানিয়েছেন। দেশে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংক্রমণ চলছে। আজ সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন লকডাউন সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ। এই বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি আরও অনেক দিন থাকবে। একথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মৃত্যুহার কমিয়ে আনা একমাত্র কাজ। একথাও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন আগাগোড়া।

বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশজুড়ে লকডাউন করা ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। এর ফলে সারা দেশ কোভিডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে। আমাদের হিসাবমতো ঠিক সময়ে লকডাউন না করলে আরও ১৪ থেকে ২৯ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ হাজার থেকে ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটত।” এই মুহূর্তে ভারতে আনলক ৪ পর্যায় চলছে। মৃত্যুর সংখ্যা দৈনিক হাজারের উপরে রয়েছে। সব থেকে দুশ্চিন্তার কথা, এই মুহূর্তে ভারতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ রয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছিল। ৯৬ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা। আজ সোমবার দৈনিক সংক্রমণ ৯২ হাজার। দৈনিক এক লক্ষ ছুঁতে পারে আক্রান্তের সংখ্যা যে কোনও দিন। ৪৮ লক্ষ মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সাড়ে ৭৭ হাজার পেরিয়েছে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাচ্ছেন, মৃত্যু প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারত। লকডাউন সিদ্ধান্ত জারি না হলে। আগামী পর্যায়গুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও নিয়ন্ত্রণ করাই অন্যতম কাজ। আর এর সঙ্গে সুস্থতার হার বাড়ানোই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষজনক দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছে হু। ভারত করোনা রুখতে সঠিক ব্যবস্থা করেছে। এই কথা হু একাধিকবার বলেছে। আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায় সে বিষয়টিও উঠে এসেছে। গোটা দেশে ১০ লক্ষের বেশি টেস্ট হচ্ছে প্রতিদিন। হু নির্দিষ্ট সংখ্যক টেস্টের কথা প্রতিদিন বলেছে। তার থেকেও বেশি টেস্ট এই মুহূর্তে ভারতে হচ্ছে। দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অক্সিজেন সিলিন্ডার অনেক বেশি মাত্রায় ভারতবর্ষে মুহূর্তে মজুত রয়েছে। তাই নয় প্রতিটি ব্লকে অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আগামী বছর জানুয়ারির মধ্যে টিকা ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আইসিএমআর- এর পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাচ্ছেন, করোনা ভাইরাস এখনও বেশ অনেকদিন থাকবে। কাজেই সমস্ত দিক পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।