লাদাখ সীমান্ত নিয়ে বৈঠকে ভারত-চিন

ফোর্থ পিলার

লাদাখে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে আরও একবার এগিয়ে আসছে দুই দেশ। নতুন বছরের শুরুতে ভারত ও চিন বৈঠকে বসেছে। কোনওভাবেই সীমান্ত নিয়ে দাবি মেনে নেওয়া হবে না চিনের। এ কথা পরিষ্কার জানানো হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। চুসুল সেক্টরের মলডোতে এই বৈঠক হবে।

এই নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে নবম কমান্ডার বৈঠক হচ্ছে। চিন লাদাখ সীমান্তে তাদের গতিবিধি বাড়িয়েছিল। গত বছর সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে মারামারি হয়। ২০ জন ভারতীয় জওয়ান মারা যান। তারপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ভারত – ভিন সীমান্ত। সীমান্ত এলাকা থেকে কিছুতেই ভিন সরে আসছে না। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে অরুণাচলেও একটি গ্রাম বানিয়েছে তারা।

এবার শীতের সময় লাদাখ সীমান্ত এলাকায় ভারত সেনাবাহিনী রেখে দিয়েছিল। শীতের সময় কোনওভাবে সীমান্ত থেকে সেনা সরানো হয়নি। চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে যাক। তারপরেই ভারত সেনা সরাবে। এই কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতকে এর আগে আট নম্বর বৈঠকে সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর কথা বলেছিল বেজিং। ভারত রাজি হয়নি।

ভারতের বায়ুসেনা প্রধান আরও একবার ইঙ্গিত দিয়েছেন আক্রমণের। সবুজ সংকেত পেলে তারা সীমান্তে উড়ে যেতে প্রস্তুত। এই কথা বলেছেন এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদুরিয়া। ২৩ জানুয়ারি থেকে ভারত – ফ্রান্সের মধ্যে ‘ডেজার্ট নাইট -২১’ মহড়া শুরু হয়েছে। রাফাল যুদ্ধবিমানকে সামনে রেখে এই মহড়া শুরু করেছে দুই দেশ।

সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, “আমরা আলোচনার পথে বিশ্বাসী। কিন্তু সমাধানের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ বলা সম্ভব নয়।” বিরোধীরা ক্রমেই কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। চিনকে সরাসরি কোনও বার্তা দেওয়া হচ্ছে না। একথায় রাহুল গান্ধি বারবার সরব হয়েছেন।

গত একবছর ধরে সীমান্তে বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করেছে চিন। একাধিক রেডার, ক্ষেপনাস্ত্র বসানো হয়েছে। বায়সেনার প্রধান ভাদুরিয়া বলেন, “আমরাও পাল্লা দিয়ে সীমান্তে প্রয়োজনীয় শক্তি বাড়িয়েছি। চিন আগ্রাসী হলে ভারতও আগ্রাসী হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।