শপিংমলে ক্রেতাদের মধ্যে ছ’ফুট দূরত্ব থাকবে, হবে থার্মাল টেস্টিং

ফোর্থ পিলার

‘আনলক ওয়ান’ – এর মধ্যে দিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনে পৌঁছতে চলেছে ভারতবর্ষ। করোনা ভাইরাস আগামী দিনে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই থাকবে। একথা চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের একাংশ জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৮ জুন থেকে শপিংমল খোলা যেতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বৃহস্পতিবার সেই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট জোনগুলিতে এই শপিং মল খোলা যাবে না। কিন্তু অন্য জায়গায় শপিং মল খোলার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।

এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের একাধিক বিধি নিষেধ মানতে হবে। ক্রেতারাও যারা শপিংমলে আসবেন তাদের মানতে হবে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তার মধ্যে অন্যতম বিষয়বস্তু। তাছাড়াও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সর্বদা মাস্ক পরে থাকা ও অযথা ভিড় না বাড়ানো —- নির্দেশিকায় এ বিষয়ে কড়া বক্তব্য রাখা রয়েছে। একগুচ্ছ বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে সেগুলি নিচে আলোচনা করা হল।

১. যারা শপিংমলে যাবেন, তাদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে৷ কোনও সময়ই মাস্ক ছাড়া থাকা যাবে না। শপিংমলের কর্মীদের ক্ষেত্রেও মানতে হবে এই নির্দেশ।

২. স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে৷ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজনেই ব্যস্ত করবেন তারা। গেটে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। আর সঙ্গে স্যানিটাইজার দেওয়া হবে হাতে।

৩. অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। একসঙ্গে ভিড় করা যাবে না কোথাও। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ক্রেতাদের মধ্যে৷

৪. কারোর শরীরে কোনও উপসর্গ থাকলে তাদের মলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কোনও ব্যক্তি জ্বর, সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগলে তারা যাবেন না শপিংমলে।

৫. ক্রেতাদের মধ্যে ৬ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে৷ ক্রেতারা যাতে একসঙ্গে অনেক সংখ্যা না যান, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ প্রয়োজনে বাইরের ক্রেতাদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেখানেও লাইনে ৬ ফুট করে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৬. যে সব কর্মীর শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে বা যাদের বয়স বেশি তাদের সামনে না রাখাই ভালো। গর্ভবতী মহিলা কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই কথা বলা হয়েছে।

৭. মলের বাইরে ও পার্কিংলটে ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা যথাযথ রাখতে হবে।পার্কিংয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মীদের মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও স্টিয়ারিং হুইল, গিয়ার, গাড়ির দরজার হ্যান্ডেল সবই জীবানুমুক্ত করতে হবে সময়ে সময়ে৷

৮. করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে সরকারি প্রচার শপিংমলেও রাখতে হবে। আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

৯. ক্রেতা, কর্মী ও পণ্য সরবরাহকারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বাহির পথ চিহ্নিত করতে পারলে ভালো হয়। কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে নজর দিতে বলা হয়েছে।

১০. শপিংমলের কোনও কর্মী হোম ডেলিভেরি দিতে যাওয়ার আগে ভালো করে তাঁর থার্মাল স্ক্রিনিং করতে হবে। ফিরে আসলেও একই নিয়য়ে তার পরীক্ষা হবে।

১১. ফুডকোর্টগুলিতে যাতে যথাযথ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হয়, দেখতে হবে। ছ’ফুট দূরত্ব এখানেও মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

১২. করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সতর্কতামূলক প্রচার চালাতে হবে। এই বিষয়ে পোস্টার, স্ট্যান্ডি, অডিও-ভিডিও মাধ্যমে ভিতরে ও বাইরে প্রচার চালাতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।