শুভ্রজিতের মৃত্যুতে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ মিডল্যান্ড নার্সিংহোমকে

ফোর্থ পিলার

১৮ বছরের তরুণ শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় কার্যত বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘড়িয়ার মিডল্যান্ড নার্সিংহোম তাকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। শহরতলি ও কলকাতার তিন হাসপাতাল ছেলেকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন বাবা – মা৷ শেষপর্যন্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক কষ্টে ভর্তি করতে পেরেছিলেন সন্তানকে। বাঁচানো যায়নি শুভ্রজিৎকে।

স্বাস্থ্য কমিশন তদন্তে মিডল্যান্ড হাসপাতালকে জরিমানা করল। পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারকে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে এই ক্ষতিপূরণ কোনও বিষয় নয়। একটি তরতাজা জীবনের মূল্য মাত্র ৫ লক্ষ টাকা। এ কেমন তদন্ত সাপেক্ষ বিচার।

উত্তর ২৪ পরগনার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিল শুভ্রজিৎ। শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভুগছিলেন সে। মিডল্যান্ড হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি। করোনা ভাইরাস টেস্ট করানো হয় তার। একটি সাদা কাগজে হাতে লিখে বলা হয়েছিল শুভ্রজিৎ করোনা ভাইরাস পজিটিভ। তাই তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল দীর্ঘ সময় ছেলেকে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছিলেন বাবা-মা। কোনও হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি। শেষপর্যন্ত আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ছেলেকে। বাঁচানো যায়নি শুভ্রজিৎকে।

বেলঘড়িয়া থানায় মিডল্যান্ড হাসপাতালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন বাবা-মা। প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্ত কমিশন এই জরিমানার কথা জানিয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ওই পরিবারকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক যাতে বিষয়টি নজর দেন। সেদিকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।