শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনদিন রাখা হয়েছে রাজপুত্রের দেহ

ফোর্থ পিলার

রাজপুত্রের নশ্বর দেহ এই মুহূর্তে কফিনবন্দি। প্রায় একদিন হতে চলল তিনি মারা গিয়েছেন। গোটা বিশ্ব স্তব্ধ। অনেকেই এই মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারেননি। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বহু মানুষ দাবি তুলেছিলেন। আর্জেন্টিনা সরকার সেই সুযোগ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। তিন দিন মারাদোনার মরদেহ শায়িত থাকবে। তারপর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে বুয়েন্স আয়ার্সের কেন্দ্রে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে কাসা রোসাদায় নিয়ে আসা হয়েছিল দিয়েগো মারাদোনা মৃতদেহ। সেখানেই কফিনবন্দি অবস্থায় তাকে শায়িত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সমবেত হয়েছেন। সেখানে গোটা এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি চলছে গোটা বিশ্বে। সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে খুব একটা বেশি সময় এক জায়গায় থমকে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে আর্জেন্টিনায়। বিভিন্ন প্রান্তে থেকে সাধারণ মানুষ আসছেন শেষবার মারাদোনাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। কফিনের সামনে এসে মুঠোবন্দি হাত মাথার উপরে উঠছে আপামর সাধারণ মানুষের। বুধবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার ঘরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মারাদোনা। মৃত্যুর সময় সামনে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সে কারণেই ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগারোটা নাগাদ ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছিল। পরে রিপোর্টে দেখা যায় রাজপুত্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। কোনও সাধারণ মানুষকে ময়নাতদন্তের আগে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মারাদোনার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও কন্যারা উপস্থিত হয়েছিলেন কেবল শেষবারের জন্য দেখার কারণে।

খবর এসেছিল ফুটবলের রাজপুত্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। গোটা পৃথিবী শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। সেই রাতে নাপোলি শহর কার্যত শোকে মুহ্যমান। রাস্তায় নেমে আসেন অসংখ্য মানুষ। শুরু হয় মারাদোনার জন্য শোক পালন। রাস্তার ধারে বহু মানুষ মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শোকস্তব্ধ হয়ে। মারাদোনার আত্মার শান্তিতে এ যেন শেষ শ্রদ্ধা। আর্জেন্টিনা ও ইতালি দুটি আলাদা দেশ। কোথাও যেন মনে হয়েছে নাপোলি শহর আর্জেন্টিনার মধ্যেই এক ফালি অংশ।

রাতেই বিভিন্ন রাস্তায় বিশাল এলইডি বোর্ড লাগানো হয়েছিল। দিয়েগো মারাদোনার বিভিন্ন বয়সের ছবি ফুটে উঠেছে সেখানে। রাস্তায় কার্যত মিছিল করে সাধারণ মানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন। মারাদোনার মৃত্যুতে অঝোরে কেঁদেছেন বহু মানুষ। মারাদোনার খেলা স্মৃতিতে রয়েছে বয়স্কদের মধ্যে। যুব সমাজের কাছে অনেকটাই টাটকা। আর তরুণদের মধ্যে এক আবেগের স্মৃতি। সব মিলিয়ে নাপোলি কোথাও কার্যত শোকস্তব্ধ। ইতালি বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক মর্যাদার আসনে রয়েছে। স্বনামধন্য ফুটবলাররা ইটালিতে রয়েছেন। তারপরেও মারাদোনার জন্য জায়গা সবার আগে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।