সংক্রমণ কমিয়ে দৃষ্টান্ত ধারাভি বস্তি, প্রশংসা করল হু

ফোর্থ পিলার

করোনা ভাইরাস আবহে দুশ্চিন্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মুম্বইয়ের ধারাভি বস্তি। আজ সেই প্রাণকেন্দ্র কার্যত করোনা জয় করার পথে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রশংসা কুড়িয়েছে ধারাভি বস্তি। সংক্রমণ কমিয়ে করোনা জয় করা সম্ভব। এই প্রসঙ্গ টেনে ধারাভির উদাহরণ টেনেছে হু। বিশ্বের সব থেকে বড় জনবসতি এলাকা সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য বৃহন্মুম্বই পুরসভা সর্বান্তকরণে পরিশ্রম করে চলেছে দিনরাত।

চারটি পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে ধারাভি বস্তিতে সংক্রমণের মাত্রা কমানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যে চার প্রথার কথা বরাবর বলে এসেছেন, সেগুলো ফলো করা হয়েছে। ট্রাকিং, ট্রেসিং, টেস্ট ও ট্রিটমেন্ট। অর্থাৎ রোগীদের প্রথমে খুঁজে চিহ্নিত করতে হবে। সেই ব্যক্তিদের সংস্পর্শে কারা এসেছে তাদের খোঁজখবর নিয়ে তাদেরকেও চিহ্নিতকরণ। এরপর টেস্ট করা। সর্বশেষ চিকিৎসা করা। এর মাধ্যমেই ধারাভি বস্তিতে সংক্রমণের মাত্রা কমানো সম্ভব হয়েছে।

ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন হু’র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস অ্যাডহ্যানোম গ্যাব্রিয়েসাস। মাত্রাছাড়া সংক্রমণ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভবপর। এটি প্রমাণ করে দেখিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি এলাকা। দৃষ্টান্ত হিসেবে ধারাভির নাম উল্লেখ করেন তিনি। হু’র ডিরেক্টর জেনারেল বলেন, ‘’এরকম কয়েকটি উদাহরণ হল ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এমনকি ধারাভি – মুম্বই মহানগরীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।’’

জানা গিয়েছে, গত তিন দিনে ধারাবি বস্তিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জনের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই সংক্রমণকে আরও কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে পুরসভা ও বিশেষ চিকিৎসক টিম। বাড়ি বাড়ি স্যানিটাইজেশনের কাজ চলেছে। এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন চিকিৎসকের দল। দেশের মধ্যে অন্যতম হটস্পট ছিল ধারাভি বস্তি।

আড়াই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ধারাভি বস্তি বিশ্বের সব থেকে বড় ঘিঞ্জি জনবসতি এলাকা। ৮ লক্ষ মানুষের বাস এখানে। কাজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রতি মুহূর্তে ছিল। গত ১১ মার্চ মুম্বইতে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হন এক ব্যক্তি। ১ এপ্রিল করোনা ভাইরাস থাবা বসায় ধারাভি বস্তিতে। সেই সংক্রমণের শুরু। এরপর লাফিয়ে বেড়েছিল আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথমে এক বৃদ্ধ মারা গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সাফাই কর্মী। এরপর এক চিকিৎসক মারা গিয়েছিলেন ধারাভি বস্তিতে।

প্রশাসনের ঘুম ছুটে গিয়েছিল। সংক্রমণ বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ধারাভি বস্তির জন্য। জানা গিয়েছে ১৪ হাজারের বেশি টেস্ট হয়েছে প্রতিদিন। এই মুহূর্তে প্রায় ৬ লক্ষর বেশি মানুষের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। বাকিদেরও শারীরিক পরীক্ষা হবে। ১৩ হাজার মানুষ কোয়ারান্টিনে রয়েছেন ধারাবি বস্তিতে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৪৭। এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস অ্যাক্টিভ সংখ্যা ১৬৬।

করোনা ভাইরাস জয় করে ফিরেছেন ১৮১৫ জন। এখানে সুস্থতার হার ৫০ শতাংশ। লকডাউন মেনে চলা হয়েছে ধারাবি বস্তিতে। প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষও সহযোগিতা করেছেন সমানভাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।