সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ৪ ডিগ্রি, শীতের চাদরে গায়ে জড়াচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ

ফোর্থ পিলার

রোদের তেজ থাকছে কয়েক ঘণ্টা। বিকেল হলেই একটা ঘুম জড়ানো পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। রাত নামলেই শিরশির করছে চারদিক। গভীর রাতে শরীর কাঁপতে শুরু করেছে ঠান্ডায়। দক্ষিণবঙ্গে গত দু’দিনের আবহাওয়ার চরিত্র বদলে গিয়েছে এক লহমায়। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, গত দুই দিনে ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা নামল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের আশপাশের জেলাগুলোতে।

নভেম্বরের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গতে শীতের চাদর জড়াতে শুরু করেছে। বর্ষা চলে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। দুর্গাপুজোর পরেই সাধারণত শীত এসে যায় শহরে। এবার বর্ষা বিদায় নিয়েছে দেরিতে। কিন্তু শীত প্রায় ঢুকে গেছে দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আরও দু’দিনের মধ্যে তাপমাত্রার পারদ নামবে। কলকাতায় শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। গত দু’দিনের মধ্যে ৪ ডিগ্রি পারদের পতন ঘটেছে। রাজধানী দিল্লিতে ইতিমধ্যেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড নেমেছে। গত ২৬ বছরে এই ঠান্ডা দেখতে পাওয়া যায়নি।

দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, এবার গোটা ভারতবর্ষে শীতের প্রকোপ ভালো দেখা যাবে। কলকাতার তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামবে আগামী দিন কয়েকের মধ্যেই। ভোররাতে যথেষ্ট ঠান্ডা পড়ছে। হাওড়া, নদিয়া, হুগলির একটু ভিতরের জায়গাগুলিতে রীতিমতো মাফলার, চাদর, সোয়েটার সহ অন্যান্য শীতপোশাক বেরিয়ে গিয়েছে। শীত উপভোগ শুরু করে দিয়েছেন সেইসব এলাকার বাসিন্দারা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, কালীপুজোর মধ্যেই শীত চলে আসবে এবার।

দেশের দক্ষিণভাগে এখনও বৃষ্টির আবহাওয়া চলছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে তামিলনাড়ু অন্ধ্রপ্রদেশ সহ উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি দেখা দিয়েছে। আরও বেশ কয়েক দিন সেই সব জায়গায় বৃষ্টি চলবে। তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণবঙ্গে খুব একটা বেশি প্রভাব পড়বে না। তবে একটানা পারদের পতন দক্ষিণবঙ্গে নাও হতে পারে। কারণ, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ তৈরি হয়। সেই কারণে জলীয়বাষ্প পূর্ণ বাতাস স্থলভাগে প্রবেশ করলে সেক্ষেত্রে শীতের রাস্তা আটকাতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এখনই এই সম্ভাবনা খুব একটা বেশি নেই।

গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সর্বনিম্ন ২২.৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৮৪ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩৪ শতাংশ। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো ঠান্ডা অনুভূত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।