সাড়ে সাত কোটি পরিবারে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা বছরে

ফোর্থ পিলার

ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় চমক। রাজ্যে সার্বজনীন করা হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড। প্রত্যেক পরিবার এবার স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আসছে। ৫ লক্ষ টাকা করে বার্ষিক স্বাস্থ্য বিমা থাকবে পরিবারপিছু। বাড়ির কর্ত্রীর নামে এই কার্ড হবে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে কার্ডের জন্য কাজ শুরু হচ্ছে। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একথা ঘোষণা করেছেন।

প্রান্তিক এলাকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই উদ্যোগী হয়েছিলেন। ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড রাজ্যের এক অংশের মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু আরও পরিবারকে এই আওতাভুক্ত করতে হত। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী সময়ে সাড়ে সাত কোটি পরিবার রাজ্যে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের আওতায় আসছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কার্ড দেওয়া হবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে এবার থেকে সেই কার্ডের বিনিময় চিকিৎসা করানো যেতে পারে।

প্রাথমিকভাবে আড়াই কোটি পরিবারের কাছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’র কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে এই কাজ শুরু হচ্ছে। ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ এই ক্যাম্পেইনিং তৈরি হয়েছিল আগেই। বাঁকুড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী একথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতো ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। সরকারি কর্মীরা বাড়িতে আসবেন। পরিবার পিছু তালিকা তৈরি হবে। বাড়ির কর্ত্রীর নামে ‘স্বাস্থ্য সাথীর’ কার্ড হবে। সরকারের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বার্ষিক আর্থিক করানো হচ্ছে। শুধু বাড়ির কর্ত্রীই নন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই কার্ডে চিকিৎসা করাতে পারবেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে আগেই করা হয়েছে। এবার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে এই সুবিধা করা হচ্ছে। দেড় হাজার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে এই কার্ডের বিনিময় চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। সরকারের এজন্য ২ হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হবে। প্রতি বছর মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, রাজ্যের মানুষ স্বাস্থ্যের দিকে আরও সচেতন হোক। চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হোক রাজ্যের।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রিক্সাওয়ালা, ইটভাটার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষরা এবার এই কার্ডের আওতাভুক্ত হচ্ছেন। ওয়াকিবহাল মহল বলছে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা ভোট। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে রাজ্যের মানুষকে নিয়ে আসতে পারলে তৃণমূল কংগ্রেস অক্সিজেন পাবে। ভোটব্যাঙ্কে তার প্রভাব পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।