স্বামীকে খুনে যাবজ্জীবন সাজা হল অনিন্দিতার

ফোর্থ পিলার

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল অনিন্দিতার। বারাসত ফাস্ট ট্রাক কোর্ট আজ এই রায় শোনায়। সাজা শোনার পরেই কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। মামলার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে তিনি যাবেন কিনা? সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। স্বামীকে খুনের বিষয়টি পুলিশি জেরায় একসময়ের স্বীকার করেছিলেন স্ত্রী অনিন্দিতা। শুধু তাই নয়, পুলিশি জেরায় একসময় অনেক বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা তিনি বলেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মোট সাতবার বয়ান পাল্টেছিল অনিন্দিতা।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তাদের একটি ১৮ মাসের শিশুপুত্র ছিল সেই সময়। ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর নিউটাউনের ডিবি ব্লকে নিজেদের ফ্ল্যাট থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল রজতের। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে। মৃতের বাবা অভিযোগ করেছিলেন, ছেলেকে খুন করা হয়েছে। পুত্রবধূ সেই খুনের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ বিষয়টিতে কিছুটা হতবাক হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে রজতকে।

বারাসতের ফাস্টট্রাক তৃতীয় কোর্টের বিচারক সুজিত কুমার ঝা আজ রায় শোনান। খুন, সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাট সহ একাধিক ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল সোমবার। আজ বুধবার বিচারক যাবজ্জীবন সাজা শোনান। অনিন্দিতার তরফের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাকে যেন ফাঁসির সাজা শোনানো না হয়। এই মুহূর্তে তাঁর একটি তিন বছরের সন্তান আছে। মা চলে গেলে সন্তান সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তাকে যাবজ্জীবন সাজা শোনানো হল। মোবাইলের চার্জারের তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আইনজীবী রজত দে- কে খুন করে অনিন্দিতা।

পুলিশি জেরায় জানানো হয়েছিল স্বামী আত্মহত্যা করেছে। একাধিকবার স্বামীর আত্মহত্যার কথার বয়ান বদল করেছেন তিনি। ময়নাতদন্ত হয়। দেখা যায় এটি খুনের ঘটনা। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এরপরেই অনিন্দিতাকে চেপে ধরা হয়। পুলিশের প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল ঘটনাটি আত্মহত্যার। কিন্তু একাধিকবার বয়ান বদল করায় শেষপর্যন্ত অনিন্দিতার দিকেই সম্পূর্ণ নজরে পড়ে। একসময় পুলিশি জেরায় স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করে অনিন্দিতা।

জানানো হয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পারিবারিক নিগ্রহের সামনে পড়তে হয়েছে। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীকে ডিভোর্সের জন্য জানাচ্ছিলেন অনিন্দিতা। কিন্তু সে সময় ১৮ মাসের তাদের একমাত্র সন্তান রয়েছে। তাই কোনওভাবেই ডিভোর্স দিতে চায়নি রজত। ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গন্ডগোল হয়। সে সময় গলায় চার্জারের তার পেচিয়ে খুন করে অনিন্দিতা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।