হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে গিয়ে আপ্লুত মোদি

ফোর্থ পিলার

হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। মতুয়াদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন বক্তব্যে। পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগর ও বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সংযোগ স্থাপন করল অনুষ্ঠানের মাধ্যম দিয়ে। একথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের মতুয়া সমাজেও যথেষ্ট আবেগ কাজ করেছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মতুয়া ঠাকুর বাড়ি গিয়েছেন। এই সফর ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই অভিযোগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “কয়েক বছর ধরে এই পবিত্র দিনের অপেক্ষা করছিলাম আমি। ২০১৫ সালে যখন আমি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলাম তখন থেকেই এখানে আসার ইচ্ছা ছিল আমার। আজ সেই ইচ্ছাপূরণ হল। আজ আমি নিয়মিতভাবে হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুগামীদের থেকে ভালবাসা পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের বড়মার স্নেহ মাযের মতো। পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগর থেকে বাংলাদেশের ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত একই রকমের শ্রদ্ধা রয়েছে। একই রকমের অনুভূতি রয়েছে।”

নরেন্দ্র মোদি হিন্দিতে বলছিলেন। বাংলায় সেই বক্তব্য তর্জমা করে শোনানো হচ্ছিল। মোদি বলেন, “আমি ১২০ কোটি ভারতবাসীর তরফে আপনাদের জন্য শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আপনাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। গতকাল ঢাকায় আমি বাংলাদেশের শৌর্য, ক্ষমতা ও সংস্কৃতির অপূর্ব রূপ দেখেছি। এখানে আসার আগে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। সংস্কৃতির দিক থেকে হরিচাঁদ ঠাকুরের বার্তা বহু দশক থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে মজবুত করছে।”

হরিচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষার কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি বলেন, “এই জায়গা ভারত ও বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্কের তীর্থক্ষেত্র। ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের বিকাশ ও প্রগতির চেয়ে সমগ্র বিশ্বের উন্নতি দেখতে চায়। সন্ত্রাস ও অস্থিরতার পরিবর্তে শান্তি চায় উভয় দেশ। এই শিক্ষাই আমাদের হরিচাঁদ ঠাকুর দিয়েছেন। এই মূল্যবোধ ও শিক্ষার জন্য নিজের জীবন সমর্পিত করেছিলেন তিনি।সংসদে শান্তনু ঠাকুর আমার সহযোগী। আমার থেকে বয়সে ছোট হলেও তাঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি।”

ওড়াকান্দি এলাকা সেজে উঠেছে নরেন্দ্র মোদির যাওয়ার কারণে। মতুয়াদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা অনেকটাই দেখা গিয়েছে এদিন। ওড়াকান্দি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করবে ভারত। একটি মিডিল স্কুলের উন্নয়নও করা হবে। এই কথা জানান মোদি। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।