হাতিমৃত্যুতে গ্রেফতার কৃষক, এলাকা নিয়ে ধন্দে বন দফতর

ফোর্থ পিলার

কেরলের হাতির মৃত্যুতে তোলপাড় গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নিরন্তর ক্ষোভপ্রকাশ। এরই মধ্যে এক কৃষককে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে বন দফতরের কর্তা ও কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। কারণ কোন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠেছে হাতিটিকে বাজি ও বারুদ ভর্তি আনারস খাওয়ালো কে বা কারা? নাকি হাতিটি নিজেই ওই আনারস খেয়ে ফেলেছিল? পরবর্তী সময়ে সেই বাজি ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয় হাতিটি। কারণ বুনো শুয়োর থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য চাষিরা এইরকমভাবে বাজি ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে কৃষিজমিতে। বুনোশুয়োর জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করার সময় সেই বাজি ও বিস্ফোরক ফেটে যায়। আর কমবেশি শুয়োরেরা আহত হয়। তারা পালিয়ে যায়। পরমুহূর্তে সেই জমিতে আর শুয়োরের আগমন ঘটে না।

সেই হিসেবে জমিতে আনারস বিস্ফোরক মুড়িয়ে রাখা ছিল? নাকি সত্যিই হাতিকে খাওয়ানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছিল? সেই প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কোন জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বন দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, একটি হাতি দিনে ১০০ কিলোমিটার হাঁটতে পারে। কাজেই এত বিস্তৃত এলাকায় কোথায় ঠিক ঘটনাটি ঘটেছে তা খুঁজে বার করা অত্যন্ত কঠিন।

পশ্চিমঘাট রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসাররা জানাচ্ছেন, ২৩ মে প্রথম তাঁরা জানতে পারেন মান্নারকড় রেঞ্জের পোট্টিয়ারার কাছে একটি হাতি এসেছে। হাতিটিকে ২৫ তারিখ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। খবর এসেছিল একটি রক্তাক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই হাতিকে উদ্ধার করার জন্য যাওয়া হয়। কুনকি হাতি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেসময় আহত হাতিটি জলের মধ্যে দাঁড়িয়েছিল। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাতিটি জলে নেমেছিল বলেই অনুমান। সে এতটাই অসুস্থ ছিল যে তাকে আর নড়ানো সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।