হাসপাতালে ভালো করে খেতে দেয় না, পাঁচিল টপকে এলাকায় করোনা রোগী

ফোর্থ পিলার

হাসপাতালে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না। পাঁচিল টপকে বাইরে চলে এসেছিলেন এক করোনা রোগী। পাশে একজনের বাড়িতে গিয়ে নিদারুণ কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত স্থানীয়রা তাকে মাছভাত খেতে দেন। করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে রীতিমতো ধুন্ধুমার কান্ড লেগে যায় আলিপুরদুয়ার তপসিখাতা করোনা হাসপাতাল এলাকা চত্বরে। হাসপাতালের এক সাস্থ্যকর্মী এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাদের মারধর করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হানিফ মহম্মদ নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গত ১৮ আগস্ট তাকে কালচিনির লতাবাড়ি হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাড়ি জয়গাঁ এলাকায়। করোনা ভাইরাস টেস্ট হয় তার। দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। এরপর তাকে তপসিখাতার করোনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই ব্যক্তির অভিযোগ হাসপাতালে ভালোভাবে খেতে দেওয়া হয় না। হাসপাতালে কর্মীদের ব্যবহার ভালো নয়। বৃহস্পতিবার সকালে সুযোগ বুঝে হাসপাতালের পাঁচিল টপকে বাইরে আসে হানিফ মহম্মদ।

হাতে তখনও তার স্যালাইনের চ্যানেল, গজ কাপড় রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে খেতে চায় ওই ব্যক্তি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে মাছভাত খেতে দেয়। রাস্তার ধারে একটি জায়গায় বসে সে পেট ভরে খাবার খায়। স্থানীয়দের মধ্যে তখন রীতিমতো ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কেন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় গাফিলতির হচ্ছে? তাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে এক স্বাস্থ্যকর্মী এসে উপস্থিত হয়। সম্পূর্ণ রাগ গিয়ে পরে তার উপর।

স্থানীয়রা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। সে হাসপাতালে ফিরে যায়। আক্রান্তের বাড়িতেও খবর পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। করোনা আক্রান্ত রোগী এভাবে বাড়ি চলে গেল কি করে? তাই নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। হাসপাতালে তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এলাকার স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেন হাসপাতালে ঠিকঠাক খাবার পাওয়া যাচ্ছে না? সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।