১০৭ কিমি বেগে ঝড়, ১০ ঘন্টায় ২৩০ মিমি বৃষ্টিতে বানভাসি মুম্বই

ফোর্থ পিলার

বন্যা বিধ্বস্ত পরিস্থিতি বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে। গত ২৪ ঘন্টায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে চলেছে ঝোড়ো হাওয়া। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কার্যত মুম্বইকে বানভাসি করে দিয়েছে। রেলপথ সম্পূর্ণ জলের তলায়। রাস্তাঘাট হয়ে গিয়েছে নদী। বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ১০৭ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে মুম্বইয়ের উপর দিয়ে। কার্যত ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই গতিবেগ দেখতে পাওয়া যায়। মুষলধারে চলেছে বৃষ্টি। মুম্বই এই মুহূর্তে কার্যত বিধ্বস্ত। প্রায় সব রাস্তাতেই কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি সম্পূর্ণ না কমলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, একথা পরিষ্কার।

সোমবার সকাল সাতটা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। দিনভর বৃষ্টি চলে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, ভারী বৃষ্টি মুম্বইতে হওয়ার আশঙ্কা। হলও তাই। মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টি শহরকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দিল। মঙ্গলবার থেকেই সমস্ত রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও গোলমেলে হয় বুধবার। সকাল থেকেই ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। মঙ্গলবার থেলে ৫০ – ৭০ কিমি বেগে হাওয়া বয়ে গিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা দেওয়া হয়। কোনও মানুষ যাতে বাইরে না বেরোয়। একাধিক নির্দেশ আসে। শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলি থেকে মানুষদের নিরাপদে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। বেশ কিছু জায়গায় বাড়ি ভাঙার সংবাদ মিলেছে। এর মধ্যেই বুধবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। জানা গিয়েছে বুধবার ১০৭ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় হয়েছে মুম্বইতে।

সাধারণত আরব সাগরে ঘণীভূত ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেই গতিবেগ লক্ষ্য করা যায়। এত গতিবেগে হাওয়া দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পাশাপাশি বুধবার টানা বর্ষণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বহু জায়গাতেই যানবাহন জলের মধ্যে আটকা পড়ে গিয়েছে। রাস্তায় ভেসে গিয়েছে বহু গাড়ি। শেষ ১০ ঘন্টায় মুম্বইতে ২৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর। এত বৃষ্টিতে জল বেরোনোর জায়গা নেই। ফলে সম্পূর্ণ বানভাসি বাণিজ্যনগরী।

আগামী ৪৮ ঘন্টা বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রেললাইন সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাল থেকে ভাসি পর্যন্ত হারবার লাইন ও মেনলাইন জলের নিচে।

লোকাল ট্রেন পরিষেবা এই মুহূর্তে বন্ধ। তা না হলে বড়সড় বিপর্যয় দেখা দিত। দুজন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এই প্রবল বর্ষণের সময়। প্রতিবার বর্ষায় মুম্বই বানভাসি হয়ে থাকে। গত ৪৫ বছরে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়েছে। এবারে পরিস্থিতি কোনখানে গিয়ে থামে! তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।