১৫০ কিমি গতিবেগে তামিলনাড়ুতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় নিভার

ফোর্থ পিলার

যত স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে, তত শক্তি বাড়াচ্ছে নিভার। ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগে ভূমিভাগের উপর আছড়ে পড়বে এই প্রলয়। দিল্লির মৌসম ভবন এই কথা জানাচ্ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল বুধবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে তামিলনাড়ু উপকূলবর্তী এলাকায়। এখন জানা যাচ্ছে, আরও কিছুটা সময় নিয়েছে নিভার। বুধবার মধ্যরাত অথবা বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে।

স্থলভাগের প্রবেশ করার সময় কিছুটা শক্তি ক্ষয় হতে পারে। মামল্লপুরম এবং কারাইকালের মধ্যে দিয়ে যাবে সে। এই পথে তামিলনাড়ু এবং পুুদুচেরিতে আছড়ে পড়বে নিভার। গতি কিছুটা কমতেও পড়ে শেষ মুহূর্তে। স্থলভূমিতে ঢোকার সময় ঘণ্টায় ১৩০-১৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় হবে। আইয়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই উপকূলবর্তী এলাকার ছবি বদলাতে শুরু করেছে। আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টি চলছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল, ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তামিলনাড়ুর ১৩ টি জেলার বহু এলাকা ফাঁকা করা হয়েছে। ৩,৯৪৮ জন শিশু-সহ ২৪,১৬৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ৩১৫ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। পুদুচেরিতে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। ভারতীয় সেনাও তৈরি থাকছে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য। সরকার এবং প্রশাসনকে সাহায্যের জন্য তৈরি উদ্ধারকারী দল, ইঞ্জিনিয়াররা।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোসাগরে রয়েছে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। চেন্নাইয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে ২৫০ কিলোমিটার দূরে এই মুহূর্তে নিভার অবস্থান করছে। ঝোড়ো হাওয়া বইছে উপকূলে। গত দু’দিন ধরে চেন্নাই-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টি চলছে। তামিলনাড়ুর থানজাভুর, তিরুভারুরু, নাগাপট্টিনাম, আরিয়ালুর, পেরামবালুর, ভিল্লুপুরম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। পুদুচেরি ও কারাইকালেও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

ভেলোর, রানিপেট, কৃষ্ণাপল্লি, তিরুচিরাপল্লি, সালেমের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। চেন্নাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চেম্বাবারামবাক্কাম জলাধার থেকে ১,০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। আরও জল ছাড়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে গত বছরে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হেনেছিল। উপকূলবর্তী এলাকা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

এবার নিভার ঠিক সেই ঘটনাই ঘটাতে চলেছে। আবহাওয়া দফতর সেই কথাই জানাচ্ছে। ঝড়ের গতিবেগে ছোটবাড়ি, মাটির বাড়ি, টিনের চাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। এ ছাড়াও বহু গাছপালা উপড়ে পড়বে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।