১৭ হাজার কোটি টাকা পৌঁছালো সাড়ে ৮ কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে

ফোর্থ পিলার

সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌছে গেল সরকারি টাকা। ‘পি এম কিশান বিকাশ প্রকল্প’তে এই টাকা সরাসরি কৃষকদের একাউন্টে পৌঁছবে। একথা আগে জানানো হয়েছিল। ১৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভারতবর্ষের সাড়ে ৮ কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে এদিন পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কথা জানিয়েছেন। দেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি ও কৃষকদের আরও বেশি সাহায্যের তাগিদে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। সেই কিস্তির টাকা পাঠানো হয়েছে এদিন।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে এই টাকা দেওয়া হয় কৃষকদের। এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করতে দেননি। সেই কারণে কেন্দ্রের টাকা কৃষকরা পান না এই রাজ্যে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প চালু রয়েছে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে। প্রতিবছর কেন্দ্রীয় খাতে অন্যান্য রাজ্যের কৃষকরা ৬০০০ টাকা করে পেয়ে থাকেন।

এদিন অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক কৃষক এখন মাঠে নতুন ফসল লাগিয়েছেন। অনেকে আবার সবে মাত্র ফসল ঘরে তুলেছিলেন। এই সময়ে এই টাকা তাঁদের খুবই কাজে লাগবে।” আজ রবিবার ষষ্ঠ কিস্তির টাকা দেওয়া হল।

দেশের উন্নতি করতে হলে কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। বারবার এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র। রবিবার ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নতুন প্রকল্প ‘কৃষি পরিকাঠামো তহবিল’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই অর্থের সাহায্যে কৃষকরা ফসল সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ-সহ একাধিক অত্যাধুনিক ব্যবস্থা করতে পারবে। ফলে দেশের কৃষিতে বিপ্লব আসবে বলে আশা প্রধানমন্ত্রীর। তবে সরাসরি কোনও আর্থিক সাহায্য নয়, বরং ঋণের মাধ্যমেই চাষিরা এই অর্থ পাবেন।

এদিন নাবার্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই এক লক্ষ কোটি টাকার তহবিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ কৃষকরা ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। নাবার্ডের সঙ্গে এ নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মউ স্বাক্ষরিতও হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ যোজনারই অন্তর্গত এই তহবিল। পাশাপাশি এদিন প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি যোজনার ষষ্ঠ কিস্তির অর্থও নাবার্ডের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, এই যোজনার মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় দশ কোটি চাষি আর্থিক সুবিধা পান। এই ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় বলে দাবি।

প্রসঙ্গত, জুলাই মাসেই কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আর্থিক সাহায্য নয়। বরং ঋণের মাধ্যমে মিলবে এই অর্থ। তবে সেক্ষেত্রে সুদে বেশকিছুটা ছাড় মিলবে। দেশের ক্ষুদ্র চাষিদের পাশে দাঁড়াতে একাধিক উদ্যোগের কথা এদিন আরও একবার মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। কিষাণ রেলের সাফল্যর কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সামনে বিহার নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের দিকে নজর রেখেই কেন্দ্রের কৃষকবন্ধু ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে মোদি। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।