১৮ জনকে মেরেছে মানুষখেকো, বাদাবনের রাজাকে রাখা হবে চিড়িয়াখানায়

ফোর্থ পিলার

দক্ষিণরায়কে ধরার জন্য ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা পাতা হয়েছিল। রাতে হরিখালী জঙ্গলে ধরা পড়ে আট বছরের একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ। বনকর্মীরা মনে করছেন সুন্দরবনের এই বাঘটি মানুষখেকো হয়ে উঠছিল। বাদাবনের রাজা খাঁচায় বন্দি হয়েছে। একথা ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবন অঞ্চলে। ধরা পড়ার পরে রীতিমতো গর্জন শুরু করেছিল সে।

বনকর্মীরা বন্দি হওয়া বাঘটিকে বোটে করে নিয়ে এসেছিল পশু চিকিৎসকের কাছে। দেখা যায় বাঘটির বয়স হচ্ছে। দাঁত ক্ষয়ে গিয়েছে। সেখান থেকেই মানুষখেকো হয়ে ওঠার সম্ভাবনা হয়েছে। এমনই ভাবছেন বনকর্মীরা। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের বসিরহাট এলাকায় বাঘের হামলা হচ্ছে অনেক মাস ধরেই। লকডাউন সময় থেকে এখন অবধি ১৮ জন মানুষ মারা গিয়েছেন বাঘের হামলায।় তারা প্রত্যেকে সুন্দরবনের খাঁড়ি অঞ্চলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল।

বনকর্মীরা মনে করছেন, এখন আর শিকারের পিছনে ছুটে ধরে খেতে পারে না বাঘটি। ছোটাছুটি না করে তাই শিকারকে অনুসরণ করে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘটি। খাঁড়ি অঞ্চলে মানুষ এলে চুপিসারে চলে যেত সে নদীর ধারে। সময়মতো আক্রমণ চালাতো সে। ধীবররা কাঁকড়া ধরায় ব্যস্ত থাকত। সেইসময় সে টার্গেট ঠিক করে আক্রমণ চালাতো। তার হাতেই মারা গিয়েছেন সাধারণ মৎস্যজীবীরা। লাহিড়ীপুর, কুমিরমারি এলাকার বহু মানুষ এই লকডাউন সময়ে বাঘের আক্রমণে মারা গিয়েছেন।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে অধিকর্তা তাপস দাস জানিয়েছেন, বাঘটিকে ঝড়খালিতে রাখা হচ্ছে। জঙ্গলে আর ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাঘটির বয়স হয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। সুন্দরবনে একটি চিড়িয়াখানা তৈরি করা হচ্ছে। ঝড়খালির চিড়িয়াখানাতে থাকবে সে। সেখানে এই মুহূর্তে দুটি বাঘ রয়েছে। কার্যত এই বাঘটি মানুষখেকো হয়ে গিয়েছে। বাঘ ধরা পড়ার খবরে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন কুমিরমারি, লাহিড়ীপুর, সাতজেলিয়া এলাকার বাসিন্দারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।