২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার করোনা আক্রান্ত আমেরিকায়

ফোর্থ পিলার

গত ২৪ ঘন্টায় আমেরিকায় করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ল। বুধবার জানা গিয়েছে শেষ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ হাজার পেরিয়েছে। এখন অবধি একদিনে এই আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। নতুন করে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। আমেরিকায় লকডাউন পরিস্থিতি এখন আর নেই। নিয়ম-নীতি কার্যত শিথিল হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রেস্তোরাঁ৷ বার, পাব, শপিংমল খুলে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সংক্রমণের হার একদিনে এতটা বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছিল। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে সেখানে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকাতেও আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়ছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার ৫২ হাজারের বেশি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে দেশে। মোট করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ লক্ষ ৮০ হাজার। মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে।

আমেরিকার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বরাবরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বিগ্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয় নিয়ে এখন আর ভাবনা চিন্তার অবকাশে নেই। তবে একটি নির্বাচনী জনসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মাস্ক পরার পক্ষে। সাধারণ মানুষ যাতে মাস্ক পরেন, সেজন্য তিনি আবেদন করেছেন। যদিও এখন অবধি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে কখনও মাস্ক পরেননি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ঘটনাও খুব একটা বেশি তার মধ্যে দেখা যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাস টেস্ট কমিয়ে দিলে আক্রান্ত সংখ্যা কমে যাবে দেশে। যাতে করোনা ভাইরাস টেস্ট কমে যায় সে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিরোধীরা বরাবর দাবি করছেন, আগামী নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সেই ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত। একের পর এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি অংশ নিচ্ছেন। করোনা ভাইরাস আবহাওয়া এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে থাকলে, তার ভাবমূর্তিতেও সমস্যা দেখা দেবে। সেজন্যই দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খুব একটা বেশি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লকডাউন কার্যত না থাকলেও বেশ কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা গত মে মাস থেকে তুলে নেওয়া হয় বিভিন্ন প্রদেশের। এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে আমেরিকার ৩০ টি রাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে অনেকটাই। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সিতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। মানুষ কাজে বেরোতে শুরু করেছেন। সেখানে অফিসকাছারি খুলতে শুরু করেছে।

নভেল করোনা ভাইরাস এখনই কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং সংক্রমণ আরও বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর প্রধান তেদ্রস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস এই কথা জানিয়েছেন। গোটা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা বরাবর জানাচ্ছেন, দ্বিতীয়বার করোনা ভাইরাস ফিরে এলে তা হবে আরও ভয়ঙ্কর। সেই হিসেবে আক্রান্ত দেশগুলিকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।