৬৫ বছরের উপরে বয়স্ক ও ১০ বছরের নিচের শিশুদের বাড়ি থেকে বেরনোয় নিষেধাজ্ঞা

ফোর্থ পিলার

এই মুহূর্ত থেকে বাড়ি থেকে বেরোনোর বয়স বেঁধে দেওয়া হল। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাডভাইজারিতে বলা হল ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষজন এই মুহূর্তে আর বাড়ি থেকে বার হবেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বৃদ্ধ – বৃদ্ধা ও বয়স্করা বাড়িতেই সময় কাটান। শুধু তাই নয় ১০ বছরের নিচে থাকা বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বার হতে নিষেধ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল। ইতিমধ্যেই সবকটি রাজ্যে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রত্যেকটি রাজ্যের মেনে চলা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশিকা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শিশুরা যেন কোনওরকমভাবে বাড়ি থেকে না বের হয়। দেখা যাচ্ছে ভারতবর্ষে যে তিন জন রোগী মারা গিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই বয়স্ক। প্রত্যেকের ৬০ – এর উপর বয়স হয়ে গিয়েছে। শরীরে একাধিক সমস্যা ছিল তাদের। অর্থাৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন বয়স্করা। মৃত্যুর দিকে পৌঁছতে খুব একটা সময় লাগছে না। এই ভাইরাস আক্রমণ করে এই ধরনের মানুষদেরই।

গোটা বিশ্বজুড়েই এই ছবি ধরা পড়েছে ইতিমধ্যে। সেইসব বিচার করে কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্দেশ জারি করেছে। পঞ্জাবে আজ যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন তার বয়স ৬৫ বছর। শরীরে একাধিক সমস্যা ছিল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই বিষয়টি নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছে চিকিৎসকদের সঙ্গে। চিকিৎসকরাও বরাবর বলে আসছেন শিশু ও বৃদ্ধদের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে পারে বেশি।

মাঝবয়সীদের শরীরে ইমিউনিটি পাওয়ার অনেক বেশি থাকে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুভয় থাকবে না। কিন্তু বৃদ্ধ ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে। প্রত্যেকটি রাজ্যকে নির্দেশ মানার জন্য বলা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক রাজ্যে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক রাজ্যে এই মুহূর্তে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যেও ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি আমলাদের বাড়িতে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রোটেশ্ন ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, এ কথা বলা হচ্ছে। তবে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মীদের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আজ রাত আটটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা জারি হয়ে গিয়েছে। কাজেই বলা যেতে পারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই সম্পূর্ণ গুছিয়ে নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।