৯০ কিমি দূরে বুলবুল, প্রহর গুনছে সুন্দরবন, ক্যাম্পে সরানো হয়েছে ২৮ হাজার মানুষকে

ফোর্থ পিলার

আয়লার আতঙ্ক গ্রাস করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, সাগরদ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। শুক্রবার বেলা বাড়তেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার গভীর রাত থেকে সেই বৃষ্টি আরও প্রবল আকার ধারণ করেছে। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপ বুলবুল সাগর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

আজ গভীর রাতেই এই ঘূর্ণিঝড় আছে পড়বে সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে। শুক্রবার থেকেই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখন অবধি ২৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। পর্যটকরা হোটেল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ৮০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া দিচ্ছে শনিবার বিকেল থেকে।

সকাল থেকেই সমুদ্র উত্তাল। একের পর এক ঢেউ ভাঙছে। রীতিমতো গর্জন করছে সমুদ্র। গঙ্গাসাগর ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালির সমুদ্রতট আগেই ফাঁকা করে দিয়েছিল প্রশাসন। জানা গিয়েছে কাকদ্বীপে ১০, পাথরপ্রতিমা ব্লকে ২০, নামখানা ব্লকের ১৬, সাগর ব্লকে ১৮ টি সাইক্লোন সেন্টার খোলা হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকেই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছতে শুরু করেছিল। স্থানীয় হাইস্কুল গুলোতে মানুষজন এসে থাকতে শুরু করেছে। অনেকেরই দুঃশ্চিন্তা, আয়লার সময় সব ভেসে গিয়েছিল। বুলবুল ১০ বছর পরে ফের সেই একই রকম ভয়াল ছবি তৈরি করে যাবে না তো!

কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক দফতর, সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ বিডিও অফিসের জরুরী ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ভিডিও কন্ট্রোলরুম। সুন্দরবন অঞ্চলের সমস্ত স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ ব্লকেও একইরকম ভয়ের ছবি। সুন্দরবনের একটি অংশ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে। হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাসনাবাদ অঞ্চলেও অত্যন্ত ভয় রয়েছে। সেখানেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেচ দফতরের কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলছে এই মুহূর্তে সুন্দরবন লাগোয়া অংশগুলোতে।

১০ বছর পর ফের এক ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ের সামনে সুন্দরবন। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে অতি গভীর ঘূর্ণিঝড় আসছে। তবে স্থলভাগের ঢোকার পর তার গতি কিছুটা কমবে। সেক্ষেত্রে তার সর্বাধিক গতি হতে পারে ১১০কিলোমিটার। কিন্তু ধ্বংসলীলা চালাতে তার খুব একটা সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে অনেকটাই আশ্বস্ত হতে পারা যাচ্ছে হয়তো এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে নিতে পারে সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ অরণ্য এভাবে ঝড়কে রুখে দেয়।

তবে বাঁধ ভেঙে নদী ও সমুদ্রের জল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি ভাবাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসনকে। গত তিনদিন ধরে বাঁধ মেরামতির কাজ হয়েছে। নজর রয়েছে সেদিকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।